মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: গয়াল। এটি গরু প্রজাতির প্রাণী। যার বৈজ্ঞানিক নাম (ইড়ং ঋৎড়হঃধষরং)। চট্টগ্রামে বাইসন নামে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে বনগরু হিসেবে ডাকে সাধারণ মানুষ।
দেশে গয়াল প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু পরিবেশের সাথে মিলে যাওয়ায় কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে গয়ালের বিস্তার বেড়েছে।
গয়াল সাধারণত তৃণভোজী প্রাণী। এরা সাধারণত হাতির সহবাসী। মানে হাতির পালের সাথেই থাকে।
গহীণ বনে যেখানে ছোট ছোট ঝোঁপ ও ডালপালা রয়েছে তেমন জায়গা গয়ালের বেশ পছন্দ। এরা সাধারণত একত্রে চলাফেরা করে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক সুত্রে জানা গেছে, সাফারি পার্ক প্রতিষ্টার প্রথম দিকে গয়াল ছিলো না। ১২ থেকে ১৩ বছর আগে বান্দরবান জেলা জেলা পরিষদ ২টি পুরুষ গয়াল উপহার হিসেবে দেয়।
২০১১-১২ সালে ২টি গয়াল (স্ত্রী) পার হিসেবে আনা হয়। পরবর্তীতে এরা মিলনের মাধ্যমে বেশ কিছু বাচ্চা জন্ম দেয়। এখন পার্কে বাচ্চাসহ সর্বমোট ২২ টির মতো গয়াল রয়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, একদল গয়াল পার্কের একটি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছোট্ট বাচ্চারা গয়ালদের দেখে আনন্দে আত্মহারা।
পার্কে আসা দর্শনার্থীরা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে আনন্দ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, গয়ালের দল নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গয়াল সাধারণত তৃণভোজী প্রাণী।
এরা গহীন জঙ্গলে দলবল নিয়ে চলাফেরা করতে পছন্দ করে। পার্কের গহীন জঙ্গলের ফলমুল, ঘাস ছাড়াও পার্ক কর্তৃপক্ষ সকাল ও বিকালে বিভিন্ন সবজি সরবরাহ করে।
তিনি আরও বলেন, গয়াল অনেকটা গরুর মতো। গয়াল বছরে ১ বার বাচ্চা প্রসব করে। এক বারে ১টি বাচ্চায় দেয়। এরা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেঞ্জার মঞ্জুরুল আলম জানান, গয়াল বর্তমানে অনেকাটা বিলুপ্তির পথে। কিন্তু সাফারি পার্কের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ফলে প্রজনন বাড়ছে।
সাফারি পার্কে বর্তমানে বাচ্চাসহ ২২টি গয়াল রয়েছে। এরা গরু প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় বাড়তি কোন খাবার তেমন সরবরাহ করা লাগে না।
তিনি আরও বলেন, পার্কের লতাপাতা, ঘাস ছাড়াও সবজি জাতীয় খাবার সরবরাহ করা হয়। এদের জন্য এখনও আলাদা বেষ্টনী করা হয়নি।
তবে, জেব্রার বেষ্টনীতে এরা চলাফেরা করেন। যেভাবে যতœ নেয়া হচ্ছে ভবিষ্যতে আরও বাড়বে গয়ালের সংখ্যা।














